সিরাজুল ইসলাম , ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ঠাকুরগাঁও জেলার পাঁচটি বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব বিদ্যালয় থেকে মোট ২৪ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাদের মধ্যে একজনও উত্তীর্ণ হয়নি। ফলে পাঁচ বিদ্যালয়ের সম্মিলিত পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন, অনভারডিঘি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭ জন, মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫ জন, তাওরিগাঁ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫ জন এবং হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে এসব বিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
অর্থাৎ, ঠাকুরগাঁওয়ের এই পাঁচ বিদ্যালয় থেকে মোট ২৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করেছে শূন্যজন।
দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৫৮.০৫ শতাংশ
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। রংপুর বিভাগের আট জেলার শিক্ষার্থীরা এই বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
এবার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে মোট পাসের হার ৫৮.০৫ শতাংশ। তবে বোর্ডের অধীনে থাকা ১৮টি বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এসব ১৮ বিদ্যালয় থেকে মোট ১২৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
এর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি বিদ্যালয়ের ২৪ জন পরীক্ষার্থীর কেউ পাস না করায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে অনেকেই এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, কোনো বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে হবে না। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষকদের পাঠদান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের যথাযথ প্রস্তুতির বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, শূন্য পাস করা বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করে দুর্বলতা চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দুর্বল বিষয়ে বিশেষ ক্লাস, নিয়মিত পরীক্ষা, অতিরিক্ত পাঠদান এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের কার্যকর নজরদারি বাড়ানো দরকার।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। কেন এমন ফলাফল হলো, তার কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ ঠাকুরগাঁওয়ের শূন্য পাস করা পাঁচ বিদ্যালয়ের ফলাফল পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আগামী বছর এসব বিদ্যালয়ের ফলাফল উন্নত করতে কার্যকর পরিকল্পনা ও নিয়মিত একাডেমিক তদারকি নিশ্চিত করা হবে—এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মাদ নিজাম তালুকদার, উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ ইমদাদ তালুকদার।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: হাউজ নং-৩৭, ব্লক- j, ইষ্টাণ হাউজিং, মিরপুর -১২, ঢাকা। মোবাইল : ০১৮২৮-১৩৭১৭১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত