৩৮তম বিসিএসের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আসিফ আল হাসানের বিরুদ্ধে ডিভোর্সের পর পরিকল্পিতভাবে একের পর এক মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও পারিবারিক সূত্রের দাবি,তার সাবেক স্ত্রী সুবর্ণা সুলতানা সুমী ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দায়ের,কাবিনের অতিরিক্ত কোটি টাকা দাবি এবং নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর সুমী নিজেকে এএসপির স্ত্রী পরিচয় দিয়ে পল্লবী থানায় ফারজানা আক্তার নামের এক নারীর বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। তবে তদন্ত শেষে এসআই মোবারক অভিযোগের কোনো সত্যতা পাননি। বরং তদন্তে উঠে আসে,সুমী নিজেই ওই নারীকে ফোন করেছিলেন এবং ঘটনার পেছনে একটি চক্রের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ,বেপরোয়া আচরণ এবং পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী পরিচয় ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের কারণে উভয় পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর এক পারিবারিক বৈঠকে সুমীর পরিবার ডিভোর্সের প্রস্তাব দেয়।
এর পরদিনই সুমী পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এএসপি আসিফ আল হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন এবং পরবর্তীতে একই অভিযোগ পুনরায় জমা দেন।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর এএসপি আসিফ আল হাসান তাকে ডিভোর্স প্রদান করেন। ডিভোর্সের পর সুমী বিভিন্ন সময় তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে পুলিশের চাকরি থেকে বিতাড়িত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়,সুমীকে ডিএমপির একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে উস্কানি ও সরাসরি সহযোগিতা করছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় এএসপি আসিফ আল হাসান ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর শাহজাহানপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ডিভোর্সের প্রায় ৩৫ দিন পর সুমী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০-এর ১১(ক) ধারায় (যৌতুকের জন্য হত্যা বা হত্যাচেষ্টা) একটি মামলা দায়ের করেন।
তবে এএসপি আসিফের পরিবারের দাবি,বিয়ের পর তিনি কখনোই যৌতুক গ্রহণ করেননি,বরং সুমীর বাসাভাড়া ও সংসারের যাবতীয় ব্যয় তিনি নিজেই বহন করতেন। মামলার দিন পুলিশের উপস্থিতিতেই তার ও পরিবারের কেনা প্রায় ১৪ লাখ টাকার মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
পরবর্তীতে এএসপি আসিফ আল হাসান উচ্চ আদালত ও নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে জামিন লাভ করলেও সুমী বিভিন্ন থানায় একের পর এক জিডি ও সাজানো অভিযোগ দায়ের করতে থাকেন।
এমনকি ২০২২ সালের একটি ঘটনা সাজিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বোয়ালিয়া থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগের সত্যতা না থাকলেও ২২ ডিসেম্বর রাত ১২টায় ৩২৩ ও ৩২৪ ধারায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ,একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর তদবিরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের নির্দেশে মামলাটি গ্রহণ করেন বোয়ালিয়া থানার ওসি।
এএসপি আসিফের পরিবার আরও অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে তার সাবেক স্ত্রী বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগ করে নতুন নতুন মিথ্যা মামলা দায়েরের ষড়যন্ত্র করছেন। এতে একজন মেধাবী বিসিএস কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় চরম মানসিক,সামাজিক ও পেশাগত চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এএসপি আসিফ আল হাসান ও তার পরিবার।
এঘটনায় এএসপি আসিফ আল হাসানের বাবা সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোঃ আমির হোসেন জানান,আমার ছেলের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে এবং পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে সারাদেশে একের পর এক সাজানো মামলার আসামি করা হচ্ছে।
সুবর্ণা সুলতানা সুমীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করলেও রিসিভ করেননি। whatsapp এ বার্তা পাঠানো হলেও কোন উত্তর মেলেনি।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মাদ নিজাম তালুকদার, উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ ইমদাদ তালুকদার।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: হাউজ নং-৩৭, ব্লক- j, ইষ্টাণ হাউজিং, মিরপুর -১২, ঢাকা। মোবাইল : ০১৮২৮-১৩৭১৭১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত