ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মাটির উর্বরতা রক্ষায় পরিমিত সার ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরে ফরিদপুরের সালথায় কৃষকদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা কৃষি অফিস। অতিরিক্ত সার ব্যবহারে জমির মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হওয়া, ফসলের রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ বৃদ্ধি এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার মতো ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সালথা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষক পর্যায়ে এ লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ জনি। উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে পর্যায়ক্রমে কৃষকদের মধ্যে মোট এক হাজার সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
লিফলেটে ‘পরিমিত সারে পেঁয়াজ ফলে, উর্বর মাটি যুগে যুগে রয়। অতিরিক্ত সার দিলে তাই—পকেট খালি, ফলনের ক্ষয়!’—এমন আকর্ষণীয় প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে কৃষকদের সার ব্যবহারে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
লিফলেটে পেঁয়াজ চাষে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি, জিপসাম, দস্তা ও জৈব সারের পরিমিত ব্যবহারের পরিমাণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতি শতক, ৩৩ শতকের বিঘা এবং ৫১ শতকের বিঘা অনুযায়ী সারের পরিমাণ উল্লেখ করে কৃষকদের জন্য সহজবোধ্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে পেঁয়াজ সংরক্ষণে সমস্যা, মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি, ফসলের রোগ ও পোকার আক্রমণ বৃদ্ধি এবং মাটির স্বাস্থ্য ও উর্বরতা নষ্ট হওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি বছর মাটি পরীক্ষা, পর্যাপ্ত জৈব সার ব্যবহার, মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং সারের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ জনি বলেন, “ফসলের ভালো ফলন পেতে অনেক কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার ব্যবহার করেন। কিন্তু অতিরিক্ত সার ব্যবহার করলেই যে ফলন বাড়বে, বিষয়টি এমন নয়। বরং এতে মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ ও উর্বরতা নষ্ট হতে পারে, ফসলের রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ বাড়তে পারে এবং উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। বিশেষ করে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে সংরক্ষণজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
তাই কৃষকদের সঠিক মাত্রায় ও সঠিক সময়ে সার ব্যবহারে উৎসাহিত করতে এ সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের প্রতি আমাদের আহ্বান, জমিতে সার প্রয়োগের আগে মাটি পরীক্ষা করুন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিন এবং ফসলের চাহিদা অনুযায়ী পরিমিত সার ব্যবহার করুন। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ কমবে, অন্যদিকে মাটির স্বাস্থ্য ও উর্বরতা বজায় থাকবে এবং কৃষক দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হবেন।”
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ ও টেকসই কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মাদ নিজাম তালুকদার, উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ ইমদাদ তালুকদার।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: হাউজ নং-৩৭, ব্লক- j, ইষ্টাণ হাউজিং, মিরপুর -১২, ঢাকা। মোবাইল : ০১৮২৮-১৩৭১৭১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত