ফরিদপুরের সালথার সোনাপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে।
সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে সোনাপুর বাজারে এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্ষী সূত্রে জানা যায়, সোনাপুরের গ্রাম্য মোড়ল সলথা সরকারি কলেজের বাংলা প্রভাষক জয়নুল আবেদীন ( সাখাওত) ও আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা এবং ফরহাদ মোল্যার নেতৃত্বে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মোঃ আজিজুল হকের সমর্থক মোঃ টুকু মাতুব্বর (৫০) ও মোসলেম মাতুব্বর আজ বিকেলে সোনাপুর বাজারে হামলার শিকার হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হন। আহতদের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন হসপিটাল এ ভর্তি করা হয়েছে, এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ খবর পেয়ে সালথা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আজিজুল হকের সমর্থক টুকু মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, আমার দলীয় লোকজনদের বিভিন্ন চাপে ফেলে ভয়ভীতি দেখিয়ে জয়নুল আবেদীন সাখাওত তার দলে নিয়ে নেয়, কিন্তু শুধু বাকি ছিলাম আমি ও আমার ভাই ভাতিজারা। গতকাল সন্ধ্যায় আমার বাড়ির উপর এসে তার দলে মিশতে আজকে পর্যন্ত সময় বেধে দিয়ে হুমকি দিয়ে আসে। ২৪ ঘন্টা অভার হওয়াতে আমি আজ বিকালে সোনাপুর বাজারে আসলে তার চাচাতো ভাই হৃদয়, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল, ফরহাদ সহ বেশ কয়েকজন আমার উপর হামলা করে মটরসাইকেল,মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে যায় ও আমাকে মারধর করে। এ ঘটনার কারনের আজ এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে মোঃ আজিজুল হক কে প্রশ্ন করলে তিনি জানান জয়নাল প্রভাষক তিনি বাবু মোল্যার লোক আ'লীগের দোসর ও সোহেল রানা (ফরহাদ) আ'লীগ যুবলীগ নেতা, সোনাপুর ও যোগারদিয়া আমার কিছু লোকজনকে মেরেধরে জোর করে তার দলভুক্ত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে, আজকে বিকেলে আমার সমর্থকদের উপরে অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করার কারণে এ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন সাখাওত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কাউকে দলে ভিড়াতে কোন প্রকার চাপ দেইনি। উল্টো ফুকরা গ্রামের ফজলু ও টুকু মাতুব্বর আমার চাচাতো ভাই হৃদয় কে সার্টের কলার ধরে, পরে বাজারে থাকা লেকজন তাদের ধাওয়া দেয়। পরে তারা আবার ঢাল সরকি নিয়ে এসে আমাদের লোকজনের উপর হামলা করলে, পরে আমাদের লোকজনও গুছিয়ে আসলে উভয় দলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা ও সমাজ সেবক ছরোয়ার হোসেনকে তার ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া এ ঘটনা বিষয়ে ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এলাকায় দলপক্ষ পরিচালনা করি না, আমাদের সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আজিজুল মোল্লা দল পরিচালনা করেন। আমি তার দলের একজন সমর্থক তবে যতটা শুনেছি, আমাদের দলের লোকজন কে বিরোধী দল নেতারা জোরপূর্বক দলে ভিড়াতে চাপ ও বল প্রয়োগ করছে। এ কারণেই এসব সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকা এখন শান্ত রয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মাদ নিজাম তালুকদার, উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ ইমদাদ তালুকদার।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: হাউজ নং-৩৭, ব্লক- j, ইষ্টাণ হাউজিং, মিরপুর -১২, ঢাকা। মোবাইল : ০১৮২৮-১৩৭১৭১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত