
দেশব্যাপী উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং রোগীদের জন্য নিরাপদ চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) সকাল ১০ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে ফটো সেশনে অংশ গ্রহণ করে আনসার সদস্যরা। গত বুধবার (১ জুলাই) থেকে এসব আনসার সদস্য হাসপাতালে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একজন আনসার কমান্ডারের নেতৃত্বে তারা তিনটি শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সকালে ৫ জন, বিকেলে ২ জন এবং রাতে ২ জন আনসার সদস্য দায়িত্বে থাকবেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সদর দপ্তরে ১ জুলাই আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ৫ হাজার সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের বেতন-ভাতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।
সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ শাহিনুল ইসলাম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী ও স্বজনের সমাগম ঘটে। আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা আরও নির্বিঘ্ন পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একই সঙ্গে দালালচক্র, বিশৃঙ্খলা ও বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা:মোঃ আল আমিন বলেন, হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রোগীদের সেবার মান উন্নয়নে আনসার সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হওয়ায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীরা নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পাবেন। জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমবে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এবং রোগীরাও নির্বিঘ্নে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। তাদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি হাসপাতালের শৃঙ্খলা, সেবার মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।