1. info@dailysamajerbani.com : https://www.dailysamajerbani.com/wp-admin/ https://www.dailysamajerbani.com/wp-admin/ : https://www.dailysamajerbani.com/wp-admin/ https://www.dailysamajerbani.com/wp-admin/
  2. : lf_ptDGZ3U7kkvl :
  3. info@www.dailysamajerbani.com : দৈনিক সমাজের বাণী :
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
গোয়ালঘরে বসবাস করা সোহেল-ঝর্ণার জন্য নিজস্ব ঘরের উদ্বোধন করলেন ইউএনও দবির উদ্দিন  হরিপুরে ‎অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন সভা অনুষ্ঠিত সালথায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  পদ্মা ব্যারাজে বদলে যাবে ২৪ জেলার ভাগ্য: স্থান পরিদর্শনে মন্ত্রী এ্যানি সালথায় আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ১৫ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর রোগমুক্তি কামনায় ছোনগাছায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জয়ঝাপ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিদায় ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত মধুখালীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত স্বৈরাচারী সরকার পতনে বিএনপি মাঠে নেমে কাজ করেছে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ  সালথায় উপজেলা পর্যায়ে নজরুল বর্ষ উদযাপন -২০২৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত

গোয়ালঘরে বসবাস করা সোহেল-ঝর্ণার জন্য নিজস্ব ঘরের উদ্বোধন করলেন ইউএনও দবির উদ্দিন 

সালথা, ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর গ্রামের সোহেল ও ঝর্ণা দম্পতি। অন্যের গরুর গোয়ালঘরই ছিল তাদের ঘর, সেখানেই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন সোহেল- ঝর্ণা দম্পতি।  অসুস্থতা, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সালথা উপজেলা প্রশাসন। তাদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে বসতঘর ও দোকান। দোকানের মালামালেরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

সোমবার সকাল ৯টায় আটঘর গ্রামে সোহেল-ঝর্ণা দম্পতির ঘর ও দোকান নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম, আটঘর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুর রহমান খান, সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রাজিয়া বেগম ও জয়নাল মুন্সীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় ওহাব মাতুহ্বরের গরু রাখার জন্য নির্মিত ছোট্ট একটি ঘরই ছিল সোহেল-ঝর্ণা দম্পতির পরিবারের একমাত্র আশ্রয়। স্যাঁতসেঁতে ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুই সন্তানকে নিয়ে সেখানেই বসবাস করতেন তারা। ঘরটি এতটাই ছোট যে, স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও কঠিন ছিল।

এর মধ্যে শারীরিকভাবে অসুস্থ সোহেল নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। তার স্ত্রী ঝর্ণাও দীর্ঘদিন ধরে দুই কিডনি নষ্ট হয়ে অসুস্থ। একসময় ভিক্ষা করে সংসারে সামান্য সহযোগিতা করলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন সেটিও সম্ভব হয় না। ফলে খাবার, চিকিৎসা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছিল পরিবারটির।

দারিদ্র্যের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সন্তানদের পড়াশোনায়। ১৩ বছর বয়সী বড় ছেলে সংসারের অভাবের কারণে স্কুল ছেড়ে স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করছে। যে বয়সে তার হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, সেই বয়সেই পরিবারের দায়িত্বের বোঝা নিতে হয়েছে তাকে। সাত বছর বয়সী ছোট ছেলে অবশ্য প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে।

পরিবারটির দুরবস্থার খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে তাদের বাড়িতে যান সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। সরেজমিনে গিয়ে পরিবারের বাস্তব অবস্থা দেখে তিনি তাদের জন্য একটি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে যাতে পরিবারটির একটি স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা হয়, সে জন্য দোকান নির্মাণেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত মানবেতর। তাদের মাথা গোঁজার মতো কোনো ঘর নেই, পাশাপাশি স্থায়ী আয়েরও ব্যবস্থা নেই। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘর ও দোকান নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। দোকানের মালামালেরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, স্থায়ী আশ্রয় ও আয়ের ব্যবস্থা হলে পরিবারটির জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। তারা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রাজিয়া বেগম বলেন, পরিবারটির জন্য সবার আগে একটি নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন ছিল। প্রশাসনের উদ্যোগে ঘর নির্মাণ শুরু হওয়ায় তাদের অন্তত নিরাপদে থাকার একটি ঠিকানা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল মাতুব্বর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির দুরবস্থা দেখে আসছেন তারা। সোহেল ও তার স্ত্রীর চিকিৎসার পাশাপাশি একটি ঘর ও আয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন ছিল। প্রশাসনের উদ্যোগে তাদের কষ্ট অনেকটাই কমবে বলে আশা করেন তিনি।

সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, সোহেল-ঝর্ণা দম্পতির মানবেতর জীবনযাপন সত্যিই দুঃখজনক। দীর্ঘদিন তারা অন্যের গরুর গোয়ালঘরে বসবাস করেছেন। উপজেলা প্রশাসন তাদের ঘর নির্মাণের পাশাপাশি জীবিকার ব্যবস্থাও করছে—এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদেরও এমন অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

স্থানীয়দের আশা, ঘর ও দোকান নির্মাণ শেষ হলে সোহেল-ঝর্ণা দম্পতির জীবনে ফিরবে স্বস্তি। একটি নিরাপদ আশ্রয়ের পাশাপাশি আয়ের পথ তৈরি হলে সন্তানদের পড়াশোনাও চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা পেরিয়ে পরিবারটি হয়তো এবার নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট