
ফরিদপুরের-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী আল্লামা শাহ্ মুহাম্মদ আকরাম আলীর গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫ টায় সালথা উপজেলা জামায়াত ইসলামির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন ফরিদপুর-২ আসনে জোটের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আবুল ফজল মুরাদ।
সংবাদ সম্মেলনে আবুল ফজল মুরাদ অভিযোগ করে বলেন, আমরা আমাদের প্রার্থীর গাড়িতে ছিলাম বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে পরিদর্শনে গিয়ে ছিলাম। আমরা যখন খারদিয়া দক্ষিণ পাড়া ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করতে যাই ভোট তখন শেষের দিকে। আমরা প্রার্থীর গাড়ি নিয়ে যখন ভোট কেন্দ্রের পাশে ঢুকি অতর্কিত ভাবে আমাদের উপর হামলা করে এবং প্রার্থীর গাড়ির গ্লাস ভাংচুর করে। আমরা কথা বলেই তাদেরকে থামাতে পারিনি। আমরা আমাদের প্রাণনাশের হুমকিতে শেষ পর্যন্ত গাড়িতে চড়ে দ্রুত সেই স্থান ত্যাগ করি। আমরা তাদেরকে বুঝাতে পারিনি আমরা কি জন্য এসেছি। এবং তারাও কিন্তু বুঝতে চাইনি আমরা কি জন্য এসেছি। আমাদের যে প্রার্থীর সামনে লোগো দেওয়া আছে খেলাফত মজলিসের যে লোগো আছে। এটা দেখেই আমাদের উপর আক্রমণ শুরু করে। বেশ কিছু নেতা হুমায়ুন খানের নেতৃত্বে এখনো আরও ছিলো মশিউর মিরান। মূলত হুমায়ুন খানের নেতৃত্বে কাজটা হয়েছে।
নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভোটের শেষ সময়ে আমরা যখন খারদিয়া দক্ষিণ পাড়া ভোট কেন্দ্রে যাই তখন ১০-১৫জন দেখি জটলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা গাড়ি থেকে নামলাম নামার সাথে সাথে আমাদের গাড়ি তারা ঘিরে ফেললো ২০-৩০জন উশৃংখল লোক এসে। এক পর্যায়ে বিব্রত অবস্থা আমি তখন তাদেরকে বললাম ভাই কি সমস্যা। তখন একজন লোকে সে আমাকে বলল আপনি গাড়িতে উঠেন। আমি গাড়িতে উঠার সময় আমাদের গাড়ির অপর পাশে তারা গাড়ি গ্লাস ভাংচুর করে। পরে আমি গাড়িতে উঠে যাই। তখন দেখি আমাদের গাড়ি ৮০-৯০জন ঘিরে ফেলেছে। তখন দ্রুত হর্ণ বাজিয়ে ওখান থেকে চলে আসি।
তিনি আরও বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছিলাম বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আমাদের এজেন্টের বের করে দেওয়া হচ্ছে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করছে। এই শুনে আমার ওখানে যাই যাওয়ার পর তারা আমাদের সাথে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ওখান গিয়ে আমরা আরও শুনতে পেলাম দুইজন সাংবাদিকদের ক্যামেরা নিয়ে গেছে। পরে তখন সাংবাদিকরা আমাদের দেখে আমাদের গাড়িতে আশ্রয় নেয়। আমরা এই নির্বাচনকে একটা প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখতে চেয়ে ছিলাম। দেখলাম নগরকান্দা সালথার জনগণ যেভাবে ধলা হুজুরের জন্য সারা দিয়ে যাচ্ছিল। এই সারা দেখে আজকের ভোটের যে বিপ্লব এবং জোয়ার প্রতিটা কেন্দ্রে একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছিলো। বিভিন্ন কেন্দ্রের খারাপ খবরে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছেন। কিন্তু সেনাবাহিনী যে ১৫-২০ মিনিট থেকে স্থান ত্যাগ করলেই তারা পুনরায় আবার এজেন্টদের বের করে দিয়ে তাদের ইচ্ছে মত কাজ করেছেন। দুপুরের পরে আমাদের হুজুরের জোয়ার দেখে তারা বেসামাল হয়ে যায়। যেকারণে তারা বেশ কিছু কেন্দ্র দখল করে নেয়। আমরা প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা করি আমরা আমাদের যে যেখানে এজেন্ট ছিলো তাদের নিরাপত্তা দেবে। এই যে নির্বাচন কে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং এখনো নির্বাচনের যে রেজাল্ট আমরা শংকিত। সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে বলে আমরা বলতে পারছি না।
এসময়ে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সালথায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।