
ফরিদপুরের সালথায় জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে নিজ উদ্যোগ ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে ভেঙে যাওয়া একটি কালভার্ট সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী এনায়েত হোসেন।
মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) উপজেলার ইউসুফদিয়া থেকে মোন্তার মোড় আঞ্চলিক সড়কের ইজারাপাড়া ডাঙ্গী জামে মসজিদ সংলগ্ন ভাঙা কালভার্টটির সংস্কারকাজ শুরু করেন তিনি। ব্যক্তিগত অর্থায়নে রড, সিমেন্ট ও বালু ব্যবহার করে আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে কালভার্টটি চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে কালভার্টটির নিচ থেকে মাটি ধসে যাওয়ায় এটি একপাশে হেলে পড়ে ভেঙে যায়। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে কাঠের তক্তা দিয়ে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের বৃষ্টিতে সেই তক্তাগুলোও ভেঙে পড়ে। কয়েক দিন আগে কালভার্টটি সম্পূর্ণ ভেঙে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচলসহ স্থানীয় মানুষের যাতায়াতে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে কৃষিপ্রধান এই এলাকার পাট, পেঁয়াজ ও ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগে পড়েন কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এনায়েত হোসেন বলেন, প্রায় এক থেকে দেড় বছর আগে নিচ থেকে মাটি ধসে কালভার্টটি একপাশে হেলে পড়ে ভেঙে যায়। এরপর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তক্তা দিয়ে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সেই তক্তাগুলোও ভেঙে পড়ে। কয়েক দিন আগে কালভার্টটি ভেঙে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে এবং তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত কালভার্টটি সংস্কারের অনুরোধ জানাচ্ছেন। বিশেষ করে পাট, পেঁয়াজসহ কৃষিপণ্য এবং বর্তমান ধানের মৌসুমে ফসল আনা-নেওয়া করতে গিয়ে কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে জনস্বার্থে নিজের উদ্যোগ ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে রড, সিমেন্ট ও বালু দিয়ে আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে কালভার্টটি চলাচল উপযোগী করার কাজ শুরু করেছি।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা কালভার্টটির কারণে তাঁদের চলাচলে যে ভোগান্তি ছিল, তা নিরসনে এনায়েত হোসেনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে অনেকটাই স্বস্তি ফিরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট ও গ্রামীণ সড়কগুলো সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।